১১ সেপ্টেম্বর ২০২১(বিবিনিউজ): ঢাকার ধামরাইয়ে পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে একটি আবাসন প্রকল্পে ঢুকে বিএনপি নেতার আয়োজন করা সভা পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও করোনা ভাইরাস রোধে ওই এলাকায় কোন জন-সমাগম না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তবুও সভা আয়োজন করায় সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি ওই বিএনপি নেতা।
শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের মাখুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে ধামরাই থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, আবাসন প্রকল্পটিতে বিচারাধীন একটি বিষয় নিয়ে তারা একটি সভা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ওই সভা করা হলে প্রকল্পের সঙ্গে আয়োজকদের সংঘর্ষ হতে পারে এই শঙ্কায় ও করোনা ভাইরাস রোধে জনসমাগম না করতে তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল। তবে তারা নির্দেশ অমান্য করেই সেখানে বক্তব্য দেয়। আমরা তাতে বাঁধা দিইনি। এরপরে তারা ওই প্রকল্পে ঢুকে জনসভা করতে গেলে আমরা তা বন্ধ করে দেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই সভায় স্থানীয় একটি আবাসন প্রকল্পের বালু ব্যবসা না পাওয়ার পর তাদের (প্রকল্পের কর্মকর্তাদের) বিরুদ্ধে নিজেদের অনুসারীদের দিয়ে মামলা দায়ের করান কুল্লা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান ও যুবদলের নেতা বদরুল সরদার বদু।
পরে সেই মামলা চালানোর নামে আশপাশের ৮ গ্রামের মানুষের কাছ থেকে ৫-৭ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে নেন তারা। সেই চাঁদা উত্তোলনে সভা ও মানববন্ধন আয়োজন করেছিলেন বিএনপির ওই নেতারা। সভায় সাভার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রমজান আহমেদ বিএনপি নেতাদের সাথে উপস্থিত থাকলেও পরে পুলিশের অবস্থান দেখে তড়িঘড়ি করে স্থান ত্যাগ করেন। এর পরপরই পুরো সভাস্থল থেকে সবাইকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে সম্প্রতি চন্দ্রিমা উদ্যানে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়ন থেকে কয়েকজন কর্মী পাঠিয়েছিলেন সাইদুর রহমান।
এ বিষয়ে জানতে কুল্লা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি ফোনে বক্তব্য দেবেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা-২০ ধামরাইয়ের সাংসদ বেনজির আহমেদ বলেন, এভাবে প্রকাশ্যে চাঁদা চাওয়া অপরাধ। তাদেরকে প্রতিহত করতে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এই চাঁদার টাকা দেশ বিরোধী কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এদেরকে অচিরেই থামাতে হবে।
